টেক্সাটাইল শিল্প এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Part-1)

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, পৃথীবিতে গ্রিন হাউস গ্যাস (জিএইচজি) এর পরিমাণ অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বর্তমানে এ গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা গবেষণায় দেখা গেছে যে কেবল ২০১০ সালে এর পরিমাণ প্রায় ৬% বৃদ্ধি পেয়েছে (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন মুক্তি)। যার জন্য বিশ্বের তিনটি দেশকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় সেগুলো হলো চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত। বেশিরভাগ গ্রিন হাউস গ্যাস জ্বালানী, উৎপাদিত পণ্য, কাঠ, রাস্তা ইত্যাদি কাজ ও ব্যবহারের কারণে সৃষ্টি হয়।

আমরা জানি যে, জলবায়ু পরিবর্তন একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আমরা যে শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ে থাকি, যে পানি পান করি এবং আমাদের বেড়ে ওঠা থেকে খাবার পর্যন্ত সব কিছুকে এটা প্রভাবিত করছে।

প্রাকৃতিক ফাইবারগুলো টেক্সটাইল শিল্পের মেরুদণ্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই প্রাকৃতিক ফাইবারগুলোর বৃদ্ধি এবং উৎপাদনকে ও প্রভাবিত করছে। সুতরাং, এটি বলা যায় যে টেক্সটাইল শিল্পকে এই প্রধান বৈশ্বিক সমস্যাকে অগ্রাধিকার হিসাবে দেখা উচিত। বর্তমানে টেক্সটাইল শিল্প গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে যা কমাতে অতিশীঘ্রই আমাদের যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

নিচে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করা হলোঃ

১.তুলা ফাইবারঃ তুলা উৎপাদন পরিবেশে অনেক বড় প্রভাব ফেলছে। গবেষণা অনুসারে, এক কেজি তুলা (এক জোড়া জিন্স এবং একটি টি-শার্টের সমতুল্য) উৎপাদন করতে ২০,০০০ লিটারেরও বেশি পানি চুষে নিতে পারে যা ৫,৫০০ গ্যালন পানির সমান।  বিশ্বের ফসলি জমির মাত্র ২.৪% জমিতে তুলা রোপণ করা হয়, তবুও এটি কীটনাশকের বিশ্বব্যাপী বিক্রয়ের প্রায় ২৪% এ অবদান রাখছে।

এটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ফাইবার উৎপাদন নয় যা টেক্সটাইল এবং পোশাক শিল্পকে প্রভাবিত করছে।  শিল্পটি আধুনিক বিশ্বের অন্যতম দূষণকারী শিল্প হিসাবে পরিচিত। বড় বড় টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলো থেকে অধিক পরিমাণে কার্বন নির্গত হয়। এ সকল ইন্ডাস্ট্রিগুলো থেকে প্রতি বছর ১.৩ বিলিয়ন টন কার্বন করে হচ্ছে।  পোশাক উৎপাদনে ৬০% এর বেশি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি ব্যবহৃত হয় এবং পোশাক উৎপাদনের একটি বড় অংশ চীন, ভারত এবং বাংলাদেশে রয়েছে। 

২.সিন্থেটিক ফাইবারঃ বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সূচনা হওয়ার পরে সিন্থেটিক ফাইবারগুলোর  উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পলিয়েস্টার এখন পোশাকগুলোতে সর্বাধিক ব্যবহৃত ফাইবার, যা একবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তুলা উৎপাদনকে  ছাড়িয়ে গেছে। পলিয়েস্টার এবং অন্যান্য সিন্থেটিক ফাইবার উত্পাদনের জন্য অনেক বেশি জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন হয়।  ২০১৯ সালে, টেক্সটাইলে ব্যবহারের জন্য পলিয়েস্টার উৎপাদনের ফলে ৭০৬ বিলিয়ন কেজি এরও বেশি কার্বন তৈরি হয়।

একটি গবেষণায় প্রমাণিত  হয়েছে যে একটা পলিয়েস্টার টি-শার্ট তৈরি করতে গেলে ৫.৫ কেজি কার্বন নির্গমন হয় যা তুলার তৈরি টি-শার্ট এর থেকে ২ গুণ। যা জমি এবং পানির উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।

টেক্সটাইল শিল্প থেকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার উপায়ঃ

১.বিকল্প ফাইবার এর ব্যবহারঃ তুলা উৎপাদনে যে কোন ফসলের চেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় এবং পলিয়েস্টার উৎপাদনে প্রতিবছর ৭০,০০০,০০০ ব্যারেলের বেশি তেল প্রয়োজন হয় যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। Flax, Hemp এবং Silk এর মতো ফাইবারগুলো ক্রমবর্ধমান স্থায়িত্বের কারণে বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কেননা এই ফাইবারগুলো উৎপাদনে তুলা এবং পলিয়েস্টার এর মত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।

২.টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এর ব্যবহারঃ

প্রথাগত টেক্সটাইলগুলোর বৃদ্ধি, সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রচুর প্রাকৃতিক উপাদান দরকার। অঅন্যদিকে অ্যাক্রিলিক ফাইবারের মতো সিন্থেটিক টেকনিক্যাল টেক্সটাইলগুলো ঘরে ঘরে কেবলমাত্র সাধারণ রাসায়নিক কিছু যৌগ এবং বিশেষায়িত সরঞ্জামের সাহায্যে উৎপাদন করা যায়।

৩. আপ সাইক্লিংঃ আপ সাইক্লিং হল পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এক্সট্রুশন প্রযুক্তির অগ্রগতি পুরানো উপকরণগুলো নতুন উপায় তৈরি করছে।  পলিপ্রোপিলিন ব্যাগ এবং বিয়ারের বোতলগুলোর মতো নন-টেক্সটাইল পণ্যগুলোকে এখন একটি সূক্ষ্ম কণায় বিভক্ত করা যেতে পারে যা গলিয়ে ব্যবহারযোগ্য ফাইবারগুলোতে এক্সট্রুড করা যায়। এ প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবেশের বর্জ্য কমিয়ে আনতে অনেক সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।

Comments

Popular posts from this blog

কৃত্রিম টার্ফ (Artificial Turf)

BEXIMCO Textiles & Apparel Ltd

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ কমাতে অ্যান্টিভাইরাল টেক্সটাইল প্রযুক্তির আবিষ্কার